Vidya Lakshmi Education Loan | বিদ্যা লক্ষ্মী এডুকেশন লোন

Vidya Lakshmi Education Loan:- শিক্ষাই এক মাত্র উপার্জনের ভিত্তি প্রস্তর। অনেক সময় আর্থিক প্রতিবন্ধকতার জন্য অনেকের লেখাপড়া অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাই অনেক স্বপ্ন বাস্তবায়নের আগেই মিলিয়ে যায় কোনও গহন আঁধারে। সুন্দর এবং সফল সমাজ গড়ে তুলতে গেলে শিক্ষাকেই হাতিয়ার করতে হবে। কেউ চাকরি করুন বা নিজের ব্যবসা, শিক্ষা না থাকলে কোনও কিছুই সফল হবে না। তবে বর্তমানে শিক্ষালাভের পথে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা আর অন্তরায় হতে পারবে না। শিক্ষার বিস্তার ও উচ্চ শিক্ষা লাভ করার জন্য ভারত সরকার সর্বদা সচেষ্ট। উচ্চ শিক্ষা লাভ করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার একটি নতুন প্রকল্প চালু করেছে। প্রকল্পের নাম বিদ্যা লক্ষ্মী এডুকেশন লোন। ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা কারিগরি শিক্ষা নিয়ে যারা উচ্চশিক্ষা লাভ করতে চায়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে তাঁদের আর্থিক সহযোগিতা দেবে কেন্দ্র। যারফলে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে দূর হবে সমস্ত বাধা। নতুন আলোর পথ প্রসারিত হবে যুবসমাজের জন্য।শিক্ষার বিস্তার ও উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহী ছাত্র-ছাত্রীদের সাহায্য করার জন্য ভারত সরকার সর্বদা সচেষ্ট । ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায়শই দেখা যায় যে, উচ্চ শিক্ষা লাভের ইচ্ছা থাকলেও কখনো কখনো পরিবারের অর্থাভাব মেটানোর জন্য ছাত্র-ছাত্রীদেরকে কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়তে হয় । ফলে বন্ধ হয়ে যায় তাদের পড়াশোনা ভেঙ্গে যায় তাদের যতসব স্বপ্ন । এই সমস্ত সমস্যাগুলি দূরীকরণের জন্য ভারত সরকার ব্যবস্থা করেছে পাঠরত ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন রকমের স্কলারশিপের এবং বিনা শুল্কে লোন প্রদানের ।ছাত্র-ছাত্রীদের সাহায্যের লক্ষ্যে Vidya Lakshmi Education Loan ভারত সরকারের একটি অভিনব উদ্যোগ। যেখানে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে অতি অল্প সুদের হারে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য লোন প্রদান করা হয় । এই লোন প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করছে ভারতের ফিন্যান্স বিভাগের অন্তর্গত National Securities Depository Limited (NSDL) 

আরো জানুন :- বন্ধন ব্যাঙ্ক গ্রুপ লোন কিভাবে পাবেন

কারা কারা Vidya Lakshmi Education Loan আপ্লাই করতে পারবেন?
  • Vidya Lakshmi Education Loan যারা পেতে পারেন

প্রথমত আবেদনকারীকে অবশ্যই একজন ভারতীয় নাগরিক হতে হবে ।

আবেদনকারীকে কমপক্ষে উচ্চমাধ্যমিক পাশ হতে হবে ।

আবেদনকারীকে কোনো টেকনিক্যাল কিংবা প্রফেশনাল কোর্সে ভর্তি হতে হবে যেখান থেকে কাজের সুযোগ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি ।

আবেদনকারীকে এই বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে যে, সে কোর্স চলাকালীন মাঝপথে পড়াশোনা বন্ধ করবে না ।

কারা এই Vidya Lakshmi Education Loan দিতে পারে?

ভারতবর্ষের 34 টি ব্যাংক এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত এবং প্রায় 70 টির বেশি লোনের সুবিধা রয়েছে বিদ্যা লক্ষ্মী প্রকল্পে। Vidya Lakshmi Education Loan এর জন্য কোনো গ্যারান্টার প্রয়োজন হয় না । এছাড়া এই প্রকল্পের আরও একটি সুবিধা হলো ভারতে এবং ভারতের বাইরে অন্য কোনো দেশে পড়াশোনা করলেও এই শিক্ষামূলক লোন পাওয়া সম্ভব ।

নিম্নলিখিত ব্যাঙ্কগুলি এখনও পর্যন্ত Vidya Lakshmi Education Loan এর পোর্টালে যোগ দিয়েছে:

১) স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া

২) ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া

৩) আই ডি বি আই

৪) ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া

৫) পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক

৬) কানাড়া ব্যাঙ্ক

৭) পাঞ্জাব এবং সিন্ধু ব্যাঙ্ক

৮) বিজয়া ব্যাঙ্ক

৯) সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া

১০) কর্পোরেশন ব্যাঙ্ক

১১) ওরিয়েন্টাল ব্যাঙ্ক অফ কমার্স

১২) দেনা ব্যাঙ্ক

১৩) কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক

১৪) কর্ণাটক ব্যাঙ্ক

Vidya Lakshmi Education Loan এর জন্য কিভাবে আবেদন করতে পারবেন?

গ্র্যাজুয়েশন বা মাস্টার্স ডিগ্রি কমপ্লিট করার পরে আপনি যে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে চান সেখানে গিয়ে প্রথমে জেনে নিতে হবে যে ওই প্রতিষ্ঠানটি “Vidya Lakshmi”  প্রকল্পে রেজিস্টার কি না, অথবা সেই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করলে কোন শিক্ষামূলক লোন পাওয়া যায় কি না । কলেজে ভর্তি নিশ্চিত হবার পর কলেজ কর্তৃপক্ষের থেকে একটি প্রভিশনাল সার্টিফিকেট নিতে হবে যেখানে কোর্সের ব্যয় সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য উল্লেখ থাকবে । তারপর, পোর্টালে লোনের জন্য আবেদন করতে হবে

প্রথমে বিদ্যা লক্ষ্মী এডুকেশন লোনের পোর্টেলে ভিজিট করতে হবে। গুগল ক্রোমে গিয়ে লিখে খুঁজে পাবেন ওয়েবসাইট।
পোর্টালে ঢুকলেই সি ই এল এ এফ পেজে গিয়ে রেজিস্টার অপশনে ক্লিক করতে হবে। সি ই এল এ এফ হল একটি ফর্ম যাতে সমস্ত অংশগ্রহণকারী ব্যাঙ্কের নানা তথ্য আছে। অনুমোদিত লিঙ্কটি একক সমস্ত-অন্তর্ভুক্ত আবেদন ফর্মে এক জনকে অ্যাক্সেস দেবে।
এই অপশনে ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গে একটি আবেদনপত্র খুলবে। ফর্মটি শিক্ষার্থীদের পোর্টালে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে সহায়তা করবে।
সেখানে শিক্ষার্থীদের কিছু তথ্য সঠিক ভাবে পূরণ করতে হবে।
ফর্ম নির্ভুল তথ্য দিয়ে ফিল আপ করা হয়ে গেলে ক্যাপচার কোড টাইপ করতে হবে এবং তার পর সাবমিট অপশনে ক্লিক করতে হবে।
এর ফলে শিক্ষার্থীর দেওয়া সমস্ত তথ্য রেজিস্টার্ড হবে এবং পোর্টালে তাঁর নামে একটি অ্যাকাউন্ট খুলবে। তার পর প্রার্থীকে একটি আই ডি এবং একটি পাসওয়ার্ড দেওয়া হবে।
সেই দুটি তথ্য প্রার্থীকে ঋণের আবেদনপত্র খুলতে এবং ভবিষ্যতে পোর্টালে লগ ইন করতে সহায়তা করবে।
তবে এ ক্ষেত্রে আর একটি তথ্য জানিয়ে রাখা প্রয়োজন। কমন এডুকেশন লোন অ্যাপ্লিকেশানটি পূরণ করার মাধ্যমে শুধু মাত্র প্রার্থীদের ঋণ অর্জনে সহায়তা করবে না। কিন্তু এই একটি রেজিস্ট্রেশন ডকুমেন্ট পূরণ করার মাধ্যমে, সমস্ত ব্যাঙ্ক তার পরিবর্তে প্রতিক্রিয়া জানাবে। কারণ রেজিস্ট্রেশন ডকুমেন্টের একটি স্ট্যান্ডার্ড ফরম্যাট রয়েছে৷আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ডেকে পাঠাবে । এইভাবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের থেকে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে লোনের অনুমোদন দেওয়া হবে । ছাত্র-ছাত্রীরা একসঙ্গে মোট 3 টি ব্যাঙ্কে বিদ্যা লক্ষ্মী লোনের জন্য আবেদন করতে পারবে ।

পোর্টালটি কেন্দ্রীয় সরকারের বৃত্তি বা ক্রেডিট স্কিমগুলি বেছে নিতে আগ্রহী প্রার্থীকে এই পোর্টালে বিশদ বিবরণ পেতে সহায়তা করবে।

Vidya Lakshmi Education Loan এর জন্য কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন?

Vidya Lakshmi Education Loan এর আবেদন করার আগে গুছিয়ে রাখুন অ্যাড্রেস, প্রুফ, বয়সের প্রমাণপত্র এবং ন্যাশনালিটি প্রুফ বা প্যান কার্ড। আবেদন করার সময়ে মাধ্যমিক থেকে শেষ পরীক্ষা পর্যন্ত সবকটির মার্কশিটের অ্যাটেস্টেড ফটোকপি জমা দিতে হবে। সঙ্গে রাখতে হবে অরিজিনাল।যে ইন্সটিটিউশনে পড়তে যাচ্ছেন সেখানকার ইস্যু করা অ্যাডমিশন লেটারের ফোটোকপি এবং অরিজিনাল দুটিই প্রয়োজন হবে আবেদন করার সময়ে।

Vidya Lakshmi Education Loan শোধের সময়সীমা কি হতে পারে?

ব্যাংক থেকে লোন অনুমোদন হওয়ার পরে যতদিন না পর্যন্ত কোর্স শেষ হচ্ছে ততদিন ছাত্র-ছাত্রীদেরকে কোনো প্রকার লোন পরিশোধ করতে হবে না; শিক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত খরচ ব্যাংক বহন করবে । কোর্স শেষ হওয়ার পরে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে কোন চাকরি অথবা কোন প্রকার কাজ অর্জন করতে হবে এবং তারপরে ধীরে ধীরে ব্যাংকের কাছে লোনের টাকাটি পরিশোধ করতে হবে । লোন পরিশোধ করার জন্য ব্যাংক ছাত্র-ছাত্রীদেরকে তিন বছর অর্থাৎ 36  মাস সময় দেবে । তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে লোন পরিশোধের সময়সীমা বর্ধিত করা হয়ে থাকে ।

Vidya Lakshmi Education Loan পেতে সাহায্য করবে এমন কয়েকটি তথ্য :-

1. শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার ব্যাপারে উৎসাহিত করা। পোর্টাল ভিত্তিক বিদ্যা লক্ষ্মী এডুকেশন লোনের সহায়তায় কেন্দ্রীয় সরকার উচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে ইচ্ছুক কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, এমন সমস্ত ছাত্রদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে চায়৷ ফলে স্বাভাবিক ভাবেই উচ্চ শিক্ষা অর্জনে উৎসাহিত হবে ছেলেমেয়েরা।

2.অ্যাকাডেমিক কোর্সের জন্য আর্থিক প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য ঋণ বা সরকারি স্পনসরড স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য পোর্টাল চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বৃত্তির জন্য আবেদন করা যাবে সহজে।

3.এই বিদ্যা লক্ষ্মী এডুকেশন লোনের পোর্টালের সহায়তায় আগ্রহী প্রার্থীরা নানা ধরনের কোর্সের অধীনে শিক্ষা গ্রহণের জন্য আর্থিক সহায়তা পেতে সক্ষম হবে। প্রায় ৭০টি বিভিন্ন স্কিম এই প্রকল্পের আওতায় থাকবে।

4.আবেদনকারী প্রার্থীরা শুধু মাত্র একটি ফর্ম পূরণ করে নির্দিষ্ট ঋণ বা বৃত্তি বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। সাধারণ শিক্ষাগত ঋণের আবেদনপত্র বা সি ই এল এ এফ হল আবেদনপত্রের ধরন।

5.প্রত্যেক শিক্ষার্থী সাধারণ আবেদনপত্রের সহায়তায় সর্বাধিক তিনটি ব্যাঙ্কে আবেদন করতে সক্ষম হবেন। ব্যাঙ্কের পছন্দ প্রার্থীর ন্দে উপর নির্ভর করবে।

6.বিদ্যা লক্ষ্মী লোন নেওয়ার সময় লোনের প্রকৃতি, লোন এর সময়সীমা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম, কোর্সের নাম, কোর্সের সময়সীমা ইত্যাদি তথ্যগুলি প্রদান করতে হবে ।

8.ছাত্র-ছাত্রীদের তাদের কোর্সের জন্য প্রয়োজনীয় ফি এবং অন্যান্য সমস্ত ফিগুলি উল্লেখ করতে হবে । কোর্স ফিগুলি প্রদান করা হয়ে গেলে ফর্মটিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই কত টাকা লোন প্রয়োজন তা দেখতে পাবেন ।

আজকের আলোচ্য বিষয় Vidya Lakshmi Education Loan আশা করছি আপনাদের সঠিক দিশা দেখাবে যাদের টাকার অভাবে উচ্চ শিক্ষা বাধা পাচ্ছে।

Leave a Comment